ডামুড্যায় রাতের আঁধারে বাগানে ঢুকে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ
মোহাম্মদ হাসান আলী
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় রাতের আঁধারে একটি বাগানে ঢুকে শতাধিক কলা, পেঁপে ও সুপারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানের মালিক প্রবাসফেরত এমদাদুল ইসলাম। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের মামুদ পট্রি গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে দেশে ফিরে নিজ জমিতে মাছের খামার গড়ে তোলেন তিনি। পরে খামারের চারপাশে প্রায় ৩০০টি কলা, পেঁপে ও সুপারি গাছের বাগান করেন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পরিবারের সদস্যরা বাগানে গিয়ে দেখতে পান, রাতের আঁধারে কে বা কারা বাগানে ঢুকে বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলেছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শাহ আলম খান, ওয়াছেদ খান, স্বপন সরদার, লিপি সরদারসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এমদাদুল ইসলাম।
এমদাদুল ইসলাম বলেন, শাহ আলম খান, ওয়াছেদ খান, স্বপন সরদার ও লিপি সরদারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তারা আমাকে ধ্বংস করে পথে বসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমার ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই রাতের আঁধারে বাগানে ঢুকে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমার খামারের মাছ মেরে ফেলেছে। ধাপে ধাপে আমার বাগানের প্রায় ৩০০ পেঁপে গাছ ও ২৫০টি মরিচ (বোম্বাই) গাছ কেটে ফেলেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এমদাদুল ইসলামের স্ত্রী আখেরা বেগম বলেন, কিছুদিন ধরে বলাবলি করছিলাম, আমার স্বামী ঢাকা গেলে এই সুযোগে বাগানের সব গাছ কেটে ফেলবে। কথার মতোই আমার স্বামী ঢাকা যাওয়ার সুযোগে তারা গাছগুলো কেটে ফেলেছে।
খামারের পাশের বাড়ির গৃহিণী জায়েদা বেগম বলেন, কয়েক দিন পরপরই দেখি বাগানের গাছ কাটা হচ্ছে। আজও কারা যেন খামারের পাশের অনেকগুলো গাছ কেটে ফেলেছে।
এ বিষয়ে অভিযোগে অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..