পশ্চিম চর বিষকাটেলিতে গভীর রাতে বসতরাড়ীর রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ: এলাকায় চাঞ্চল্য
মোঃ হাসান আলী
গোসাইরহাট, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
কুচাইপট্টি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চর বিষকাটেলি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে গভীর রাতে এক বর্বরোচিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী আবেদ আলী রাড়ীর বসতবাড়ির রান্নাঘরে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন ভাই আব্দুল আলী রাড়ী এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে ঘটনার দিন গভীর রাতে আবেদ আলী রাড়ীর স্ত্রী হঠাৎ রান্নাঘর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। আগুনের তীব্রতা দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও ততক্ষণে রান্নাঘরের যাবতীয় মালামাল ও কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আলী রাড়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আগুন লাগার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তবে আগুন লাগার পর আমার ঘর কাছে হওয়ায় আমরা বিষয়টি জানতে পারি এবং চিৎকার শুনতে পাই। পরবর্তীতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা সকলে মিলে আগুন নেভাতে অংশগ্রহণ করি।"
কুচাইপট্টি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মনির হোসেন জানান, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, "পারিবারিক কলহ ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করেছি।"
ঘটনাটি জানতে পেরে এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বীরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং বিস্তারিত শোনেন।
এলাকার মুরুব্বী মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মালদ বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে রান্নাঘরে যেভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত ও অমানবিক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।"
আরেক মুরুব্বী মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন গাজী বলেন, "গ্রামের মানুষ হিসেবে এই ঘটনা আমাদের ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর এমন নির্মমতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।"
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন, পরীবানু, হারুন মাঝি, ইমন হোসেন সোহেল এবং মিরাজ মাতুব্বর ঘটনার বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে আব্দুল আলী রাড়ীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তারা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী পরিবার তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুরো এলাকা জুড়ে এ ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে এবং ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..