৪ ড্রাম ট্রাক বালুসহ হাতেনাতে ধরা, কমলগঞ্জে ৩ মাসের কারাদণ্ডে জেলে গেলেন মালিক মিয়া
নদীর বুকের ওপর যখন ড্রাম ট্রাকের চাকা ঘোরে, তখন শুধু বালু ওঠে না। উঠে আসে একটা জনপদের আর্তনাদ।
সচরাচর রাতের আঁধারে ঘটে এসব কাণ্ড। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আজ শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মাঠে নামলো প্রশাসন। সিলেট মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত আর কমলগঞ্জ থানা পুলিশের টিম একসাথে হানা দিলো অবৈধ বালুর ঘাঁটিতে।
ধরা পড়লেন মালিক মিয়া (৪৪)। অভিযান টের পেয়ে ৪ জন ট্রাক ড্রাইভার পালিয়ে যায়। পাশেই সারি সারি দাঁড়িয়ে ৪টি ড্রাম ট্রাক। প্রতিটা ট্রাকের পেট ভর্তি নদী থেকে চুরি করা বালু। যেন নদীর হৃদপিণ্ডটাই কেটে তুলে এনেছেন তিনি।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিক মিয়াকে দিলেন ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। জব্দ করা হলো বালুসহ ৪টি ড্রাম ট্রাক। রায়ের পরপরই মালিক মিয়াকে সোপর্দ করা হয় কমলগঞ্জ থানায়। জব্দকৃত ৪টি ট্রাকও থানায় নিয়ে আসা হয়।
এই ৪ ট্রাক বালু হয়তো তার কাছে লাখ টাকার ব্যবসা। কিন্তু যে নদীর পাড় ধসে যায়, যে কৃষকের জমি ভাঙনে বিলীন হয়, যে রাস্তা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়, সেই ক্ষতির হিসাব কে রাখে? সরকার হারায় রাজস্ব, এলাকা হারায় মানচিত্রের অংশ, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হারায় একটি বাসযোগ্য ভূমি।
উপজেলা প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, নদীখেকোদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ চলবে। পালিয়ে যাওয়া ড্রাইভারদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মালিক মিয়া যেন আর সাহস না পায় রাতের আঁধারে বা দিনের আলোতে নদীর বুক চিরে নিজের ট্রাক ভরার।
আজ একজন জেলে গেলেন, চারটি ট্রাক পড়ে রইলো থানার হেফাজতে। কিন্তু নদীর বুকে যে ক্ষত হলো, সেই ক্ষত শুকাবে কবে?
নদী বাঁচলেই বাঁচবে কমলগঞ্জ। এই সত্যটা বুঝতে আর কতজন মালিক মিয়াকে জেলে যেতে হবে?
এ জাতীয় আরো খবর..