বিদ্যুতের স্পর্শে থেমে যাওয়া নিঃশ্বাস: বছরে ঝরে হাজার প্রাণ,সচেতনতায় বাঁচানো যায় অনেক মুখ
ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ — রান্নাঘরের চালে বৃষ্টির পানি ধরতে ছাদে ওঠা কিশোর, সকালের শিফটে যাওয়া ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা পরীক্ষার রাতে ভেজা হাতে টেবিল ল্যাম্প ঠিক করতে যাওয়া ছাত্র—এমন অসংখ্য ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। আরও হাজার হাজার মানুষ দগদগে পোড়া দাগ ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে যান।
সংখ্যাগুলো নীরস হলেও, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একেকটি অসতর্ক মুহূর্ত। অসম্পূর্ণ তারের সংযোগ, শিশুর নাগালে খোলা তার, খালি পায়ে সুইচবোর্ডের কাছে যাওয়া, ঝড়ের সময় ছেঁড়া লাইন ধরতে যাওয়া—এই ছোট ছোট অবহেলাই বড় দুর্ঘটনা ডেকে আনে। বিদ্যুৎ কখনো সতর্ক করে না, শব্দ করে না। স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে যায় অঘটন।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে দেখলে প্রথম করণীয় হলো মেইন সুইচ বন্ধ করা। তা সম্ভব না হলে শুকনো কাঠ বা রাবারের বস্তু দিয়ে আহত ব্যক্তিকে উৎস থেকে আলাদা করতে হবে—কখনোই খালি হাতে নয়। এরপর শ্বাস-প্রশ্বাস ও পালস পরীক্ষা করে প্রয়োজনে সিপিআর দিতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
প্রতিরোধের উপায় আরও সহজ। ভেজা হাতে কোনো যন্ত্র স্পর্শ করা যাবে না, মেরামতির সময় রাবারের জুতা পরতে হবে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে প্লাগ ও সুইচবোর্ড, কাজ শুরুর আগে সুইচ অফ করতে হবে। একজন মা যদি ফ্যানের সুইচবোর্ডে সেলোফেন টেপ লাগিয়ে দেন, তিনি শুধু ঘর গোছান না—একটি সম্ভাব্য মৃত্যুর পথ বন্ধ করে দেন।
বিদ্যুৎ আমাদের ঘর আলোকিত করে, জীবনকে সহজ করে। কিন্তু অসতর্কতা তাকেই ঘাতক বানিয়ে তোলে। একটু সচেতনতা, একটু থামা—এইটুকু অভ্যাসই পারে অনেক প্রিয় মুখকে বাঁচিয়ে রাখতে।
এ জাতীয় আরো খবর..