রূপপুরে জ্বালানি ভরার সবুজ সংকেত, উৎপাদনের মহেন্দ্রক্ষণে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন ইতিহাস রচনার পথে এগিয়ে গেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় জ্বালানি লোডিং সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পর্যায়ে কঠোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে রিঅ্যাক্টর ভেসেলের ভেতরে ইউরেনিয়ামের ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়। এরপর ফিজিক্যাল স্টার্টআপ, ন্যূনতম নিয়ন্ত্রিত শক্তি অর্জন এবং ধাপে ধাপে পাওয়ার স্টার্টআপসহ বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা শেষে চুল্লি পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লাইসেন্স ইস্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। এ সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কাজ পরিচালিত হবে।
১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চালু হলে গ্রীষ্মে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমে আসবে। একইসঙ্গে কার্বন নিঃসরণহীন এই বিদ্যুৎ দেশের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..